নাস্তিকতাকে অপরাধ বলে মনে করেন?
আমি সাইকোলজির স্টুডেন্ট, এজন্য আশা করছি ভালো একটা পরিপ্রক্ষিত দাড় করাতে পারবো।প্রত্যেকটা বিশ্বাসের পেছনে অনেকগুলো কারণ থাকে, সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে ভৌগোলিক। বাংলাদেশে জন্ম হওয়ার কারণে জন্মসূত্রে আমি ইসলাম ধর্ম পেয়েছি, যদি আমার জন্ম ইজরায়েলে হতো ৯৯% সম্ভাবনা ছিলো আমি একজন ইহুদি হবো। এখন আপনি বলতে পারেন, তখন আপনি চাইলে তো সত্যের সন্ধান পেতে পারতেন! আমি কেনো সত্য ধর্ম ইসলাম থাকতে ইহুদি ধর্ম পালন করে যাবো! এখানেই হচ্ছে সমস্যা।
যারা মনে করে নাস্তিক হওয়া পাপ তারা ধরেই নেই, একজন মানুষের পক্ষে সত্য খুঁজে পাওয়া খুব সহজ। এবং, এই ধরে নেওয়াটা মূলত তৈরি হয় অন্ধবিশ্বাস থেকে। আমি যদি, আমার দাদু কে দিয়ে একটা উদাহরণ দেই তাহলে হয়তো বিষয়টি ক্লিয়ার হবে। আমার দাদু, ইসলাম এবং হিন্দু ধর্ম ছাড়া আর কোনো ধর্মের নাম জানে না। তিনি নিজ ধর্ম সম্পর্কেই কিছু জানেন না, ছোটোবেলা থেকে যা শুনে আসছেন তাই বিশ্বাস করছেন এবং তার ভরসার মানুষরা যখন বলছিলেন হিন্দু ধর্ম মিথ্যা বানোয়াট তখন সেগুলো সে বিশ্বাস করেছিলেন।
এখন আমি ধরে নেই খ্রিস্টান ধর্ম সঠিক, এখন যেহেতু খ্রিস্টান ধর্ম সঠিক তাই আমার দাদু হেলে যাবে। কিন্তু, এখানে প্রশ্ন আসে সে যেহেতু জানেই না পৃথিবীতে খ্রিস্টান ধর্ম বলতে কিছু আছে, তাহলে তার অপরাধ টা কোথায়!
আমাদের মস্তিষ্ক তথ্য ছাড়া চিন্তা করতে পারে না। আমি যে লেখাগুলো লিখছি, এগুলো হচ্ছে আমার মেমোরিতে পড়ে থাকে শব্দের মিশ্রণ। তথ্যের সমন্বয় এবং ফিল্টারিং ছাড়া নতুন কিছু তৈরি করা মানব মস্তিষ্কের পক্ষে অসম্ভব। তাহলে আমি কিভাবে জানবো কোনো ধর্ম সঠিক নাকি মিথ্যা!
মনে করি, আমার মস্তিষ্কে "আমি ভাত খাই" এই তিনটা শব্দ শুধু স্টোর আছে। এই তিনটা শব্দের ভেরিয়েশনে যতো কম্বিনেশন করা সম্ভব আমি করতে পারবো। যেমন, "আমি ভাত", " আমি খাই ভাত", "আমি", " ভাত আমি" ইত্যাদি। এর বাইরে গিয়ে আমার পক্ষে "মাছ" অথবা "সমুদ্র" চিন্তা করা সম্ভব না!
বেশিরভাগ মানুষ বিশ্বাসকে দ্রুব সত্য বলে ধরে নেই, এইটাই হচ্ছে মূল সমস্যা। আজকে যদি আমার মস্তিষ্কের চিন্তাগুলো আপনার মধ্যে দিয়ে দেওয়া যেতো তাহলে, আপনার যদি কোনো ধর্ম বিশ্বাস থাকতো সেইটা গায়েব হয়ে আমার চিন্তায় রূপান্তর হয়ে যেতে। বিশ্বাস চিন্তার ফসল ছাড়া আর কি?
একজন মানুষ যখন দেখতে পাবে তার বিশ্বাসের পেছনে কিছু নির্দিষ্ট চিন্তা এবং অভিজ্ঞতা অঙ্গাঅঙ্গি ভাবে জড়িত। এখন, কেউ ধর্মে বিশ্বাস করছে নাকি করছে না, অবিশ্বাস করার কারণে কেউ অপরাধী কিনা, এই প্রশ্নটাও তার অপ্রাসঙ্গিক লাগতো।